Friday, September 27, 2019

ন ভ দ শ ম
----------------
সম্পূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক রচনা | দয়া করে উত্তেজিত হবেন না
----------------
ন | তুই ডাক |
ভ | কেন? আমাকে বলির পাঁঠা পেয়েছিস নাকি ?
ন | কল্কেতে দু টান মারার পরে যেরকম ব্যা ব্যা করিস , ওই রকমই মনে হয় | ঝামেলা না করে ডাক |
ভ | আমাকে যদি ভষ্ম করে দেয়? শ্রাদ্ধ কে করবে ?
ন | আমাদের আবার শ্রাদ্ধ হয় ? সাধে পাঁঠা বলে তোকে ? এবার ডাক |
ভ | ডাকবো ?
ন | ডাক |
ভ | (গলা খাঁকড়ি মেরে ) - বাবা, একবার ধ্যান থেকে উঠুন বাবা | বড় বিপদ |
শ | হুঁ ?
ভ | বলছি বড় বিপদ | একবার চোখটা খুলুন বাবা |
শ | তিন নম্বর টা ?
ন | আজ্ঞে , চোখ খুলতে হবে না বাবা| (ফিসফিস করে) - ব্যাটা চান্স পেয়েই গাঞ্জা , ভাং খেয়ে উল্টে গেছে |
শ | কি বললি?
ন | মায়ের বড় বিপদ বাবা | কিছু একটা করতে হবে বাবা |
শ | কি হয়েছে ?
ভ | ক Instagram এ post করেছে - মায়ের দুটো হাত ভেঙে গেছে | একটা আবার ত্রিশূল যে হাতে ধরে সেটা |
শ | হ্যাঁ ? সেটা আবার কি বস্তু ?
ন | আজ্ঞে - হাত বাবা | হস্ত |
শ | আরে ধ্যাৎ - ওই যে insta না কি একটা বললি ?
ভ | সে অনেক ব্যাপার বাবা | বোঝাতে সময় লাগবে | হাত টা ভেঙেছে শুধু নয় | আরও অনেক কিছু ঝামেলা পেকেছে | একবার উঠুন বাবা |
শ | আরে হারামজাদা , বছরে এই কটা দিন | একটু আমায় ছাড় | ডাক্তার দেখিয়ে নিতে বল |
ন | ডাক্তার দেখাবো কি করে ? আটকে রেখেছে তো |
ভ | হ্যাঁ বাবা | কি একটা খাতায় নাম নেই | পুলিশ এসে পাঁচজনকেই জেলে পুরে দিয়েছে |
শ | (এবার চটকা ভেঙে উঠে বসে) : কি ? বলিস কি ? আটকে রেখেছে ?
ন | শুধু তাই নয় বাবা | গ কে কিছু খেতে দেয়নি অনেক্ষন | পেটটা চুপসে গেছে আর ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে চেঁচাচ্ছে | ক ওই জেল চত্বরে গোটা তিনেক মেয়ে গার্ডের সাথে ঝাড়ি মারছে| সরস্বতীর সব কটা বই পড়া শেষ হয়ে গেছে, এখন ঘ্যান ঘ্যান করছে আরও বই চাই |
শ | হুম | ব্যোম ব্যোম | হাতটা ভাঙলো কি করে ? মাঝরাস্তাতেই কুং ফু দেখাতে গেছিল নাকি ?
---
ম | তখনি বলেছিলাম, এবারের পুজোটা কুমোর এর গো ডাউনেই কর | এখন থেকে ঠাকুর বার
করলেই বিপদ |
ম | নতুন টাটার ট্রাক নিয়ে এলাম | রাস্তায় যে হাল চাষ করে রেখেছে কে জানত | এই সাইজের গর্ত , Axle এর আর দোষ কি?
ম | এবার হাতটা জোড়া লাগবে কখন , পুজোই বা হবে কখন ? থাক বসে অন্ধকারে |
ম | একবার দেখে আয় - আর কিছু ভাঙেনি তো ?
ম | (ঘুরে এসে ) - দাদা ! সব্বোনাশ হয়ে গেছে | প্রতিমা গায়েব |
ম | গায়েব মানে ?
ম | মানে গায়েব | নেই | gone | ভাগলবা | নিরুদ্দেশ |

------
দ | (গ কে উদ্দেশ্য করে ) - চ্যাঁচানি টা থামা দু মিনিট | ভ - খবর দিলি ? হাত টা খসে কোথায় পড়েছে দেখ | ব্যাথায় আর পারছি না |
ভ | সিগন্যাল লাগছে না যে  | সব কটা ফোন দেখে নিয়েছি |
দ | দাঁত কেলিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস এখনো ? দৌড় মার্ | কৈলাশে পৌঁছে বলে দিবি, immediately যদি না এসেছে , ওই ভাঙা হাতেই বঁটি নিয়ে তাড়া করব |
------
ভ | বাবা , একবারটি চলুন | নয়তো আঁশ বঁটি নিয়ে তাড়া করবে বলেছে |
শ | কোনো chance নেই |
ভ | মাইরি বলছি , তাড়া করবে sure |
শ | করলে করবে | তখন দেখা যাবে | এই কটা দিন আমি ছাড়ছি না | একটা কাজ কর | কয়েকটা অপ্সরা জোগাড় কর | একটু নাচ গান ফুর্তি হোক |
ন | আজ্ঞে নেই কেউ |
শ | মানে ?
ন | সব booked | পুজোর বাজার তো, মর্তলোকে demand খুব high | দুনিয়ার massage spa খুলেছে না ? সব কটা ওখানেই গেছে | ভালো পয়সাও দিচ্ছে শুনলাম | আপনি যদি বলেন , একটা appointment করে দিই ? তবে খরচ কিন্তু অনেক |  
শ | এ তো মহা বিপদ | কোথাকার জেলে পুরেছে ?
ভ | জেল নয় - বলছে detention centre | প্রমান দেখাতে বলছে ১৯৭১ এর আগের কাগজপত্র চাইছে |
শ | ছেড়ে দে | দশমীর দিন যাবো | এবার কল্কেতে দু ছিলিম লাগা |
ন | আগের মালটা কিন্তু হবে না বাবা |
শ | কি হচ্ছেটা কি? কেন হবে না ?
ন | আজ্ঞে , আগের টা e - ganja ছিল | ওটা এখন ban করে দিয়েছে |
শ | ঘোর কলি এসেছে | একেবারে ঘোরতর কলি যুগ |

Thursday, July 4, 2019

দশ বছর আগের ডায়েরি থেকে

অনেক জমে আছে | মাথার মধ্যে খালি ঘুরপাক খায়; "আফসোস" নিয়ে কথা হচ্ছিল দু চারজন বন্ধুর সাথে |
আমার ক্ষেত্রে কয়েকটা অবশ্য বোম্বাই মার্কা মতিভ্রম | আর একই ভুল বারবার করাটা মূর্খামি | যাদের মুখোশ বারংবার খসে গেছে, তাদের কে প্রতিবারই  "benefit of doubt " দেওয়াটাকে মূর্খামি ছাড়া অন্য কিছু বলা উচিত নয় |

কয়েকদিন আগে আমিতাভ দা (আমিতাভ রক্ষিত) কলকাতায় এসেছিলেন | দেখা হল; ভীষণ ভালো লাগল|

২০০৯ এর ডিসেম্বর |

একটা পুরোনো বাড়ি কিনেছি - পেল্লায় সাইজের | মূলত বাড়ির পেছনে  ও সামনে বেশ অনেকটা জায়গা আছে দেখে | খেলার অনেকটা জায়গা পাওয়া যাবে | আর কাছেই স্কুল, পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ | বাড়িটার হাল খুবই খারাপ | তবে সস্তা | আমার একার জন্য অবশ্য প্রয়োজনের চেয়ে অনেকটাই অতিরিক্ত | কিন্তু সময় কেটে যাবে সব ঠিক ঠাক  করতে | নিজের হাতে টুকটাক কাজ করতে আমার ভালোই লাগে | গ্যারাজের মধ্যে সেকেন্ড হ্যান্ড বেশ কিছু যন্ত্রপাতিও নিয়ে এলাম |
বোধহয় ২২ শে ডিসেম্বর | আমার বড় সন্তানের জন্মদিন সামনে ; তার ইচ্ছে অনুযায়ী কয়েকটি বাচ্চা ছেলে আমার বাড়িতে একটা রাত্রি থাকবে, খাওয়া দাওয়া করবে | Safeway তে বাজার করছি তার জন্য | বেদম কাশি শুরু হয়ে গেল | তাড়াতাড়ি সব নিয়ে ফিরে এলাম | কাশি টা থেকে থেকেই ভোগাচ্ছে | অল্প বিস্তর রান্না , আর বাকিটা "heat and eat "|

হয়ে যাওয়ার পর জানলাম ওদের মধ্যে একটি ছেলের বাড়িতে খুবই অভাব চলছে | তার জন্য বেশ অনেকটা ছাঁদা বেঁধে দিলাম | বড় শোয়ার ঘরটা ছেড়ে দিলাম ওদের খুনসুটির জন্য | তারপর হাতে ফোন নিয়ে, সিগারেট ধরিয়ে , রোজকার মত বাড়িতে ফোন করলাম | বাড়ির ভেতর ধূমপান করা যাবে না| বাইরে হিড়হিরে ঠান্ডা | তাই আপোষ - গ্যারাজের সিঁড়ি | ঠান্ডা অপেক্ষাকৃত কম | কাশিটা তখনও থেকে থেকে জানান দিচ্ছে | মায়ের সাথে কথা বললাম | অনেকদিন ধরেই বলছি, তোমরা একবারটি ঘুরে যাও| রূপ কে নিয়ে একাই থাকি | ও যখন ওর মা এর কাছে যায় , আমার সময় কাটতে চায় না | সেদিন একটু অভিমান করেই বললাম - থাক, তোমাদের আর আসতে হবে না |
পরের দিন বাচ্চাদের মা বাবারা এক এক করে নিয়ে গেলেন | সেদিনটা আমি বাড়ি থেকেই কাজ করলাম | কাশিটা থামছে না | বিকেল গড়িয়ে রাত হল | খাওয়া দাওয়া সেরে, রূপ কে ঘুম পাড়িয়ে , একটা বই নিয়ে শুতে গেলাম | কাশির দমকে কিছুতেই ঘুমোতে আর পারি না | শুলেই মনে হচ্ছে  নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে | পুরো রাতটা কেটে গেল দাঁড়িয়ে আর পায়চারি করে | হাতের কাছে cough  syrup , গরম  জলের ভাপ ইত্যাদির কোনোটাই বিশেষ কাজে দিলো না |

২৪শে ডিসেম্বর | Christmas Eve | রূপ কে স্কুলে পাঠানোর পর, তৈরী হয়ে গাড়ি বার করলাম | একরকম জোর করেই অফিস গেলাম | বেশ ঠান্ডা| অল্প বিস্তর বরফ জমে আছে আগের দিনের তুষারপাতের ফলে | অফিসের পার্কিং লট ফাঁকা | বড়দিনের লম্বা ছুটিতে অধিকাংশ লোকই নেই | হেঁটে নিজের ঘরে পৌঁছতে দম বেরিয়ে গেল | খালি মনে হচ্ছে বদহজম হয়ে তলপেট থেকে গলা অবধি ফেঁপে আছে |
চেয়ার এ বসে খানিক্ষন ঝিমিয়ে নিলাম | চারিদিক শুনশান | কোনো মিটিং নেই | সাধারণত ডেস্কের ফোনটা গড়ে পাঁচ মিনিট পরপর বাজে - বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন দাবি | আজ একেবারে শান্ত | ঘুমিয়েই পড়েছিলাম | সেল ফোনের শব্দে চটকা ভাঙল |

মায়ের গলা - আমরা পরশু বেরোচ্ছি | সাতাশ তারিখ সন্ধ্যাবেলায় পৌঁছে যাব | আমার  ঘড়িতে তখন দুপুর দেড়টা | বিশেষ কিছুই করার নেই দেখে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম | বাড়ি ফিরে অল্প ডাল ভাত করে রাখব | মা বাবা এলে যাতে অসুবিধে না হয় |

২৪শে ডিসেম্বর, প্রায় মধ্যরাত | দাঁড়িয়ে থাকলে তাও নিশ্বাস নিতে পারছি | তবে ঠ্যাঙে ব্যাথা হয়ে গেছে | রূপ ঘুমিয়ে পড়েছে | থেকে থেকেই কাশি ; হরেকরকম antacid খাওয়ার পরও ফেঁপে থাকাটা যাচ্ছে না | ভোর রাত্রে আর থাকতে পারলাম না | রূপের মা কে বাধ্য হয়েই ফোন করে জানালাম যে আমাকে ইমার্জেন্সি তে যেতে হবে, ওকে নামিয়ে দিয়ে | বেচারা ছোট্ট ছেলেটাকে আধঘুম থেকে তুলতে মায়া লাগছিল | কিন্তু উপায় নেই | হাড় হীম করা ঠান্ডায়, North Suburban Medical Center এর Emergency তে পৌঁছে, মনে একটু বল এল | এবার যাই হোক না কেন , ডাক্তার বাবুরা আছেন | একটি Chest X-Ray করার পর, অল্পবয়স্ক ডাক্তারটি বিনা দ্বিধায় জানিয়ে দিল - Pneumonia | Augmentin নামক anti-biotic | চুপচাপ বাড়ি গিয়ে শুয়ে পড়ুন | একদম বিশ্রাম |
ওষুধগুলো নিয়ে নিয়ে অগত্যা বাড়ি ফিরে এলাম | বিশ্রাম বললেই তো আর বিশ্রাম হয় না | মা বাবা আসছেন | একটু অন্তত পরিষ্কার করে রাখতে হবে সব | ধারণা ছিল - ওষুধ পেটে পড়বে, আর আমিও আগের মত দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেব | যাই হোক , যতটা পারলাম বিশ্রাম নিলাম | কিন্তু না কমল কাশি , না কমল নিঃশ্বাসের কষ্ট |

আরও একটি বিনিদ্র রাত | ওষুধে বিশেষ কাজ হয়েছে বলে মনে হল না | রাত বাড়ার সাথে সাথে অস্বস্তিও যেন বেড়েই চলল | ভোরের আলো দেখলাম - তাকে অবশ্য আলো আর বলা যায় না | এই সময়টাতে সূর্য পূব দিকে সামান্য উঁকি মেরে দিগন্তের গা ঘেঁষেই আবার গায়েব হয়ে যায় পাহাড়ের পেছনে |
দিনের বেলাটা কখনো সোফায় আধশোয়া হয়ে, নয়ত ভ্যাবলার মতো শুনশান রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকে কেমন একটা ঘোরের মধ্যে কেটে গেল | আমার ভাইয়ের ঘনিষ্ট বন্ধু , অভিষেক ও তার স্ত্রী অজন্তা কে জানিয়ে রেখেছিলাম | যতদূর মনে পরে বড়দিনের মাধ্যাহ্নভোজটা ওরাই নিয়ে এসেছিল | সন্ধ্যাবেলায় বিমানবন্দর যেতে হবে ; রূপ কে জানাইনি | Surprise থাকবে বলে | শরীর দুর্বল লাগছে ঠিকই , দমবন্ধ ভাবটা একটু হলেও কমেছে | রূপকে তুলে নিয়ে , বেশ খানিকটা সময় থাকতেই পৌঁছে গেলাম Denver International Airport | এক সময় নাকে দড়ি বেঁধে দেশের চার কোন দৌড়েছি চাকরির খাতিরে এই গেট গুলো দিয়েই | এখানকার প্রায় প্রতিটি কোনাই আমার পরিচিত | রূপকে বলেছি আমার এক বিশেষ বন্ধু আসছে - মিথ্যে বলিনি | সামান্য "ইতি গজ " |

বাবা মা দের বেরোতে সময় লাগবে | একরাশ ক্লান্তি নিয়ে প্রতিক্ষালয়ের একটা চেয়ার দেখে বসলাম |
এরপর মিনিট কয়েক ধরে যে ঘটনাটা ঘটল , তার জন্যই এতো পায়তারা | চোখের কোন থেকে শুরু হল একটা কালচে পর্দা নামা | মাথাটা মনে হল যেন এই ঝলমলে পরিবেশের ভেতর ভেসে উঠেছে | বুকে ভয়ঙ্কর চাপ | কেউ যেন একটা মস্ত পাথর আমার বুক আর গলার মাঝখানে রেখে দিয়েছে | আমি তাকে সরাতে পারছি না | মাথাটা এলিয়ে গেল চেয়ার এর পেছনে |

নানান শব্দ ভেসে আসছে | ছেঁড়া টুকরো কথা , কখনো হাসি | রূপের গলা শুনলাম যেন | অধৈর্য হয়ে পড়ছে - আর কতক্ষন বাবা ? আমি বলছি - আরও অনেকক্ষন | এখনো সময় আসেনি | আসতে পারে না | আমাকে বাঁচতেই হবে | তোর জন্যেই বাঁচতে হবে | তোকে মানুষ করতে হবে; অন্ধ সন্তানপ্রেম - সে যে অনেক বড় | তার মোহ, তার দাবি, তার দায়িত্ব - বাকি আর কিছুর কোন প্রয়োজন নেই | তাই বাঁচতে আমাকে হবেই | সর্ব শক্তি দিয়ে সেই দানবাকার পাথরটাকে সরাতে হবে |

সরে গেল সেই পাথর | মা বাবাকে দেখে তখনকার ছোট্ট রূপ উচ্ছসিত | বোধহয় তার পরের দিন আমি হসপিটালে ভর্তি হই | শ্বাসকষ্ট | কাশি | Pneumonia তখন ফুসফুসের পুরোটাই দখল করে নিয়েছে | আর হৃদযন্ত্রের একটা ধারকে দিয়েছে বরাবরের মতো বারোটা বাজিয়ে | ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন - আচ্ছা আপনার কখনো হার্ট attack হয়েছে কি? পাশে বাবা এবং মা বসে | আমি বললাম - হয়ে থাকলেও আমার জানা নেই | মিথ্যে বললাম | ডাক্তার মুচকি হাসলেন |

তারপর? একসময় যারা খুব কাছের লোক ছিল তারা অবশ্য অনেককাল আগেই সম্পর্ক রাখা বন্ধ করে দিয়েছে | ঝুম্পু  বোধহয় সব ফেলে প্লেন এ উঠে একদিন পরেই এসে গেছিল | একমাত্র এই অমিতাভদা , রথীন দা এবং মিরা দি , রুচিরা এবং অরবিন্দ দা , এবং সেই অভিষেক আর অজন্তা | মাঝখানে দুতিনবার রাজা এবং রোমি এসেছিল খোঁজখবর নিতে | আমিতাভ দা , প্রায় দিনই একবার ঢুঁ মেরে যেতেন | বাজার করে দেওয়া থেকে ওষুধ , ড্রাইভ করে নিয়ে যাওয়া | যাই হোক , এনারা আমার চরম দুঃসময়ে পাশে থেকেছেন | অমিতাভদা এবং আমি - দুজনেই divorcee - ম্লেচ্ছ | তাই বোধহয় বন্ধুত্বটা পোক্ত হয়েছে | সেই সময়ের দু তিন মাস , এক অশীতিপর বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধা, তাদের জোয়ান সন্তানকে আরেকবার শুধু জীবনদান দিয়েই ক্ষান্ত হননি | সেই অপদার্থ সন্তানের সন্তানকে নিয়ম করে খাওয়ানো, পরানো, ভয়াবহ ঠান্ডার মধ্যে হেঁটে তাকে স্কুলে দিয়ে আসা নিয়ে আসা, সবই করেছেন |

শুধু সেই সময়তে নয় | আমি কলকাতায় এবং দুর্গাপুরে থাকাকালীনও |  এখন অবশ্য সেসব মনে থাকার কথা নয় | জানি এসব আবোল তাবোল sentimental বকবকানি | শিক্ষা পেলাম অনেকটাই - কিছুটা হলেও মানুষ চিনতে শিখলাম | অকৃতজ্ঞ আমি কোনোদিনও ছিলাম বলে মনে হয় না | আজও নই |
মাঝে কানে এসেছিল , আমার মা ও বাবা কে নিয়ে বেশ অনেকেই অনেক কুকথা বলেছেন | ঠিকই করেছেন | বিষধর সাপের চেহারাগুলো কেমন হয় চিনতে পেরেছি - বিরাট পাওনা | 

Tuesday, February 12, 2019

শখের গাড়ি


সঠিক দিন , মাস , বছর কোনোটাই মনে নেই | সম্ভবত ২০০৩ | কি কারণে আমি আরেকবার Denver শহরে বসবাস করা ঠিক করলাম সেই প্রসঙ্গ পরে একদিন হবে | Castlegate Apartments এ থাকাকালীন , আমার ব্যবসায়িক জীবনের প্রথম বরাত | তখনকার হিসেবে অনেক টাকার ব্যাপার | বয়েস কম ছিল | ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে দেখলাম, আমার একার পরিশ্রমেই কাজটা হয়ে যাবে মাস তিনেকের মধ্যে | প্রথম কিস্তির টাকা , client অগ্রিম দিয়ে দিয়েছে |

গেল মাথাটা ঘুরে | হোস্টেলে এক খানা বিড়ি তিন ভাগ করে খাওয়া অমিতাভ রায়, রাতারাতি বেশ মোটা একখানা ল্যাজ গজালো | চারিদিকে অনেক লোককে দেখে মনে হত - আহা কি আনন্দেই না আছে | রাজপ্রাসাদের মত বাড়ি , দামি lexus , mercedez  গাড়ি | আর আমাকে দেখ - Kemon একটা হতচ্ছাড়ার মত এক কামরার ফ্ল্যাটে তিন জন গুঁতোগুঁতি করে থাকি | ছোট্ট শিশুটার একটা খেলার মত বাগানও নেই | ঠিক করে ফেললাম - আর বিলম্ব নয় | হামারা ল্যাজ যথেষ্ট মোটা হ্যায় | একখানা বাড়ি কিনবো বাকি সবার মত | আরেকটা দামি গাড়িও কিনব|

আমেরিকাতে গাড়ি কেনার ব্যাপারে অনেকগুলো প্রচলিত প্রথা আছে | প্রথমত, একেবারে হাতিবাগানের ফুটপাথের দোকানে রকমারি হাবিজাবি জন্য যেমন কান কাটা হয়ে দর দস্তুর করতে হয় , এখানে সেটা করতে হয় গাড়ি কেনার সময় | দ্বিতীয়ত, এক বছর পুরোনো গাড়ি কেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ | খুচরো ঝামেলা গুলো থাকে না, গাড়ি অনেক মসৃন ভাবে চলে | এবং প্রথম বছরের মূল্যহ্রাসের অঙ্কটা নেহাত কম হয় না - সেটা নিজের ট্যাঁক থেকে বেরোয় না | অতএব , কোনো একদিন ফাঁক দেখে , এক বছর বয়স্ক একটি Lexus GS 300 , নিয়ে ঘরে ঢুকলাম | বেশ একটা কেউকেটা মনে হচ্ছিল নিজেকে | আশেপাশের দু চারজন, বাইরে রাখা গাড়িটার দিকে আড়চোখে দেখে চলে গেল | দেখ শালা; ভালো করে দেখ | চামড়া বাদামি হতে পারে , কিন্তু গাড়িটা কেমন হাঁকিয়েছি, ভালো করে দেখ !

এর পরপরেই, আমার ল্যাজের ব্যাসার্ধ যে এতটুকু কমেনি সেটাও তো বোঝাতে হবে | শুধু Lexus চড়ে বাঙালি পার্টি তে গেলে, বিশেষ কোন হনু হওয়াটা প্রমাণিত হয় না | বেশ কয়েকটা জায়গা চষে, শেষমেশ কিনেই ফেললাম একখানা প্রাসাদোপম বাড়ি |

বিরাট বাড়ি সে | পেছনে বিস্তৃত ডেক | তার পরে  অনেক খানি কার্পেটের মতো ঘাসে মোড়া yard | তিনটে গাড়ি রাখার গ্যারেজ, খান চারেক শোবার ঘর | তিনটে বাথরুম | এলাহী খোলা রান্নাঘর | আমার ল্যাজের size যে কতটা, সেটা দেখানোর জন্য বহুবার বহু লোকের সমাগম |  সেখানে সবই ছিল | শুধু ছিল না শান্তি |
যেদিন জানতে পারলাম আমার সাংসার অনেক দিন আগেই ভেঙে গেছে , বুঝলাম বাড়িটাই রয়েছে, সেখানে আমি নেই |
তবু অহংকার কি আর অত সহজে যায় ? ডিভোর্সের সময় মাননীয়া বিচারপতির কাছে আমি একটি বস্তুই রাখতে চেয়েছিলাম | Lexus গাড়িটা | উনি বোধহয় বুঝেছিলেন যে গাড়িটাকে আমি ভালোবাসি |
কিন্তু সে গাড়িও আমি রাখতে পারিনি | ২০০৯ সালে কপর্দকশূন্য হয়ে, একবেলা খেয়ে  ধারে একটা মোটেলে থাকাকালীন উপায়ান্তর না দেখে জলের দরে বিক্রি করে দিলাম | কিছুদিনের জন্য হলেও শখের গাড়ি আমাকে প্রাণ দান করে দিয়ে গেল | এবং একটা শিক্ষাও দিয়ে গেল |
ল্যাজ বাদ দিয়ে মানুষ হলাম |
আমাকে একজন বলেছিলেন - আমার নাকি একটা "self made man " এর ego আছে | সেটা ভাঙতে পেরে তিনি উদ্বেলিত | নাঃ, সেটা ভাঙার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে |

আজ আমি যতটা পারি সাইকেল চালাই| ভালো লাগে |

Saturday, January 12, 2019

Cream Roll

ছুটির দিন হোক চাই না হোক, ভোর বেলা আমার রোজকার ডিউটি ছিল, কোনো মতে চোখ মুখ ধুয়ে, ব্যাজার মুখে হাতে একটা ফাঁকা ঘটি নিয়ে হাঁটা দেওয়া | নাঃ - নালার ধরে প্রাতঃকৃত্য সারার জন্য নয়| ভদ্রলোককে চাচাজি বলেই ডাকতাম - কোনোদিন তাঁর আসল নাম জানতে পারিনি; চেষ্টাও করিনি | তাঁর ছোট্ট এককামরার কোয়ার্টারের পেছনে তিনটি কি চারটি গরু পুষতেন | সেখান থেকে ফ্রেশ দোয়া দুধ নিয়ে ফেরত | এরকমই আরেকটা অভ্যেস হয়ে গেছিল | তবে সেটা সাধারণত ছুটির দিন গুলোয় |
হাঁটতে হাঁটতে কিছুদূর গেলেই তিন চারটে দোকান - টিনের চাল| একটাতে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার মাঝে মধ্যে বসতেন | আরেকটিতে খলিল নাম বেশ হিরো মার্কা একজন ধোপাখানা চালাতেন - যদিও signboard এ লেখা ছিল - "Prince dry cleaners ". দোকানের পেছনে চৌবাচ্চাতে আছাড় মেরে কাপড় কাচার পরিষ্কার আওয়াজ শোনা গেলেও dry | মাঝে একটি মুদিখানা - হারুদার দোকান| বাজারের চাইতে সব কিছুরই দু পয়সা বেশি দাম| তবু, হাতের কাছে বলে, চিনিটা, তেলটা নিয়ে আসা হতো | সে চিনির মান নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো |
কিন্তু আমাকে ছোট্ট বেলা থেকে বড় হতে দেখা হারুদা পাশের একটা বেঞ্চিতে বসতে দিত | দু চারটে হাবিজাবি গল্প | দুটো লজেন্স, chewing  gum | পরবর্তীকালে নেশা হয়ে গেলো ক্রিম রোল খাওয়ার | পকেটে গোল্লা , তাও হারুদা ধারেই দিয়ে দিত | মাসের শেষে দোকানের ধারের বহর থেকে মায়ের প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা | বকাবকির পর কি করে খান পঞ্চাশেক ক্রিম রোলের দাম যে ফস করে সংসার খরচ থেকে বেরিয়ে গেল, সেটা যাতে বাবা ঘুণাক্ষরে জানতে না পারেন সে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলো | হারুদা কে গিয়ে অনুরোধ করে এলাম - বাবা এলে যেন এই ক্রিম রোল scandal এর বিষয়ে জানতে না পারেন | হারুদা কথা রেখেছিল|
ফী বছরে এখনো একবার করে হারুদার দোকানে ঢুঁ মেরে যাই | মেয়ে হোস্টেল এ পড়াশুনো করছে, গর্বের সঙ্গে জানায় | আজও স্টিল মার্কেট যাওয়ার পথে চার মিনিট হ্যাজানোর জন্য দাঁড়ালাম | দেখলাম দোকানটা বন্ধ | পাশের একটা অচেনা দোকানের সামনে একটি ছেলে ঝাড় দিচ্ছিল | জিজ্ঞেস করলাম, হারুদার দোকান বন্ধ কেন | সে জানালো হারুদা ওরফে হারাধন গড়াই গত হয়েছেন, বছর খানেক আগে | এবার আর তাই পয়সা দিয়ে ক্রিম রোলটা খাওয়া হলো না |