ছুটির দিন হোক চাই না হোক, ভোর বেলা আমার রোজকার ডিউটি ছিল, কোনো মতে চোখ মুখ ধুয়ে, ব্যাজার মুখে হাতে একটা ফাঁকা ঘটি নিয়ে হাঁটা দেওয়া | নাঃ - নালার ধরে প্রাতঃকৃত্য সারার জন্য নয়| ভদ্রলোককে চাচাজি বলেই ডাকতাম - কোনোদিন তাঁর আসল নাম জানতে পারিনি; চেষ্টাও করিনি | তাঁর ছোট্ট এককামরার কোয়ার্টারের পেছনে তিনটি কি চারটি গরু পুষতেন | সেখান থেকে ফ্রেশ দোয়া দুধ নিয়ে ফেরত | এরকমই আরেকটা অভ্যেস হয়ে গেছিল | তবে সেটা সাধারণত ছুটির দিন গুলোয় |
হাঁটতে হাঁটতে কিছুদূর গেলেই তিন চারটে দোকান - টিনের চাল| একটাতে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার মাঝে মধ্যে বসতেন | আরেকটিতে খলিল নাম বেশ হিরো মার্কা একজন ধোপাখানা চালাতেন - যদিও signboard এ লেখা ছিল - "Prince dry cleaners ". দোকানের পেছনে চৌবাচ্চাতে আছাড় মেরে কাপড় কাচার পরিষ্কার আওয়াজ শোনা গেলেও dry | মাঝে একটি মুদিখানা - হারুদার দোকান| বাজারের চাইতে সব কিছুরই দু পয়সা বেশি দাম| তবু, হাতের কাছে বলে, চিনিটা, তেলটা নিয়ে আসা হতো | সে চিনির মান নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো |
কিন্তু আমাকে ছোট্ট বেলা থেকে বড় হতে দেখা হারুদা পাশের একটা বেঞ্চিতে বসতে দিত | দু চারটে হাবিজাবি গল্প | দুটো লজেন্স, chewing gum | পরবর্তীকালে নেশা হয়ে গেলো ক্রিম রোল খাওয়ার | পকেটে গোল্লা , তাও হারুদা ধারেই দিয়ে দিত | মাসের শেষে দোকানের ধারের বহর থেকে মায়ের প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা | বকাবকির পর কি করে খান পঞ্চাশেক ক্রিম রোলের দাম যে ফস করে সংসার খরচ থেকে বেরিয়ে গেল, সেটা যাতে বাবা ঘুণাক্ষরে জানতে না পারেন সে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলো | হারুদা কে গিয়ে অনুরোধ করে এলাম - বাবা এলে যেন এই ক্রিম রোল scandal এর বিষয়ে জানতে না পারেন | হারুদা কথা রেখেছিল|
ফী বছরে এখনো একবার করে হারুদার দোকানে ঢুঁ মেরে যাই | মেয়ে হোস্টেল এ পড়াশুনো করছে, গর্বের সঙ্গে জানায় | আজও স্টিল মার্কেট যাওয়ার পথে চার মিনিট হ্যাজানোর জন্য দাঁড়ালাম | দেখলাম দোকানটা বন্ধ | পাশের একটা অচেনা দোকানের সামনে একটি ছেলে ঝাড় দিচ্ছিল | জিজ্ঞেস করলাম, হারুদার দোকান বন্ধ কেন | সে জানালো হারুদা ওরফে হারাধন গড়াই গত হয়েছেন, বছর খানেক আগে | এবার আর তাই পয়সা দিয়ে ক্রিম রোলটা খাওয়া হলো না |
হাঁটতে হাঁটতে কিছুদূর গেলেই তিন চারটে দোকান - টিনের চাল| একটাতে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার মাঝে মধ্যে বসতেন | আরেকটিতে খলিল নাম বেশ হিরো মার্কা একজন ধোপাখানা চালাতেন - যদিও signboard এ লেখা ছিল - "Prince dry cleaners ". দোকানের পেছনে চৌবাচ্চাতে আছাড় মেরে কাপড় কাচার পরিষ্কার আওয়াজ শোনা গেলেও dry | মাঝে একটি মুদিখানা - হারুদার দোকান| বাজারের চাইতে সব কিছুরই দু পয়সা বেশি দাম| তবু, হাতের কাছে বলে, চিনিটা, তেলটা নিয়ে আসা হতো | সে চিনির মান নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো |
কিন্তু আমাকে ছোট্ট বেলা থেকে বড় হতে দেখা হারুদা পাশের একটা বেঞ্চিতে বসতে দিত | দু চারটে হাবিজাবি গল্প | দুটো লজেন্স, chewing gum | পরবর্তীকালে নেশা হয়ে গেলো ক্রিম রোল খাওয়ার | পকেটে গোল্লা , তাও হারুদা ধারেই দিয়ে দিত | মাসের শেষে দোকানের ধারের বহর থেকে মায়ের প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা | বকাবকির পর কি করে খান পঞ্চাশেক ক্রিম রোলের দাম যে ফস করে সংসার খরচ থেকে বেরিয়ে গেল, সেটা যাতে বাবা ঘুণাক্ষরে জানতে না পারেন সে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলো | হারুদা কে গিয়ে অনুরোধ করে এলাম - বাবা এলে যেন এই ক্রিম রোল scandal এর বিষয়ে জানতে না পারেন | হারুদা কথা রেখেছিল|
ফী বছরে এখনো একবার করে হারুদার দোকানে ঢুঁ মেরে যাই | মেয়ে হোস্টেল এ পড়াশুনো করছে, গর্বের সঙ্গে জানায় | আজও স্টিল মার্কেট যাওয়ার পথে চার মিনিট হ্যাজানোর জন্য দাঁড়ালাম | দেখলাম দোকানটা বন্ধ | পাশের একটা অচেনা দোকানের সামনে একটি ছেলে ঝাড় দিচ্ছিল | জিজ্ঞেস করলাম, হারুদার দোকান বন্ধ কেন | সে জানালো হারুদা ওরফে হারাধন গড়াই গত হয়েছেন, বছর খানেক আগে | এবার আর তাই পয়সা দিয়ে ক্রিম রোলটা খাওয়া হলো না |