Saturday, January 12, 2019

Cream Roll

ছুটির দিন হোক চাই না হোক, ভোর বেলা আমার রোজকার ডিউটি ছিল, কোনো মতে চোখ মুখ ধুয়ে, ব্যাজার মুখে হাতে একটা ফাঁকা ঘটি নিয়ে হাঁটা দেওয়া | নাঃ - নালার ধরে প্রাতঃকৃত্য সারার জন্য নয়| ভদ্রলোককে চাচাজি বলেই ডাকতাম - কোনোদিন তাঁর আসল নাম জানতে পারিনি; চেষ্টাও করিনি | তাঁর ছোট্ট এককামরার কোয়ার্টারের পেছনে তিনটি কি চারটি গরু পুষতেন | সেখান থেকে ফ্রেশ দোয়া দুধ নিয়ে ফেরত | এরকমই আরেকটা অভ্যেস হয়ে গেছিল | তবে সেটা সাধারণত ছুটির দিন গুলোয় |
হাঁটতে হাঁটতে কিছুদূর গেলেই তিন চারটে দোকান - টিনের চাল| একটাতে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার মাঝে মধ্যে বসতেন | আরেকটিতে খলিল নাম বেশ হিরো মার্কা একজন ধোপাখানা চালাতেন - যদিও signboard এ লেখা ছিল - "Prince dry cleaners ". দোকানের পেছনে চৌবাচ্চাতে আছাড় মেরে কাপড় কাচার পরিষ্কার আওয়াজ শোনা গেলেও dry | মাঝে একটি মুদিখানা - হারুদার দোকান| বাজারের চাইতে সব কিছুরই দু পয়সা বেশি দাম| তবু, হাতের কাছে বলে, চিনিটা, তেলটা নিয়ে আসা হতো | সে চিনির মান নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো |
কিন্তু আমাকে ছোট্ট বেলা থেকে বড় হতে দেখা হারুদা পাশের একটা বেঞ্চিতে বসতে দিত | দু চারটে হাবিজাবি গল্প | দুটো লজেন্স, chewing  gum | পরবর্তীকালে নেশা হয়ে গেলো ক্রিম রোল খাওয়ার | পকেটে গোল্লা , তাও হারুদা ধারেই দিয়ে দিত | মাসের শেষে দোকানের ধারের বহর থেকে মায়ের প্রায় ভিরমি খাওয়ার অবস্থা | বকাবকির পর কি করে খান পঞ্চাশেক ক্রিম রোলের দাম যে ফস করে সংসার খরচ থেকে বেরিয়ে গেল, সেটা যাতে বাবা ঘুণাক্ষরে জানতে না পারেন সে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলো | হারুদা কে গিয়ে অনুরোধ করে এলাম - বাবা এলে যেন এই ক্রিম রোল scandal এর বিষয়ে জানতে না পারেন | হারুদা কথা রেখেছিল|
ফী বছরে এখনো একবার করে হারুদার দোকানে ঢুঁ মেরে যাই | মেয়ে হোস্টেল এ পড়াশুনো করছে, গর্বের সঙ্গে জানায় | আজও স্টিল মার্কেট যাওয়ার পথে চার মিনিট হ্যাজানোর জন্য দাঁড়ালাম | দেখলাম দোকানটা বন্ধ | পাশের একটা অচেনা দোকানের সামনে একটি ছেলে ঝাড় দিচ্ছিল | জিজ্ঞেস করলাম, হারুদার দোকান বন্ধ কেন | সে জানালো হারুদা ওরফে হারাধন গড়াই গত হয়েছেন, বছর খানেক আগে | এবার আর তাই পয়সা দিয়ে ক্রিম রোলটা খাওয়া হলো না |